আইসিসির দুর্নীতি দমন কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন ক্রিকেটার ও তিনজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। একজনকে দেওয়া হয়েছে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।
লিগের ১২তম আসরে আইসিসির দুর্নীতি দমন কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) কর্তৃপক্ষ একজন ক্রিকেটার, দলের কর্মকর্তা, একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক এবং সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিসহ মোট চারজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই বরখাস্তের ঘোষণা দেয় এবং অভিযুক্তদের অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দিয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বেটিং-সম্পর্কিত কার্যকলাপ, দুর্নীতির প্রস্তাব, ডিমান্ড নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, যোগাযোগ গোপন করা এবং তদন্তে অসহযোগিতা। [source]
সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের লজিস্টিকস ম্যানেজার মো. লাবলু রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক, ক্রিকেটার অমিত মজুমদার এবং সিলেট টাইটানসের টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী। এছাড়া, বিসিবি তার ‘এক্সক্লুডেড পার্সন পলিসি’-র অধীনে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামিনুর রহমানকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরসহ একাধিক মৌসুমে দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপের অভিযোগের তদন্তের পর এই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। [source]
বিসিবি ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শাল বিপিএলের ১২তম আসরের অভিযোগগুলোর তদন্ত পরিচালনা করছেন। এই তদন্তে বিপিএলের আগের মৌসুমগুলোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা গত বছরের অক্টোবরে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত এবং আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দারের সভাপতিত্বে এই কমিটি বিপিএলের ১১তম আসরের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করেছিল। [source]
বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে, তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। ইকবাল বিপিএলের ১২তম আসরের বিভিন্ন অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (EOI) প্রক্রিয়ার আগে সততার প্রশ্নে দুজন ব্যক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন গভর্নিং কাউন্সিলের কিছু সদস্য অভিযুক্তদের একজনকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হয়েছিল। [source]
তামিম ইকবাল আরও উল্লেখ করেন যে, সিলেট টাইটানস এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেস—এই দুটি দল কোনো স্বাক্ষরিত চুক্তি ছাড়াই পুরো মৌসুম শেষ করেছে। তিনি আরও জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন, ব্যাংক গ্যারান্টি, ফ্র্যাঞ্চাইজি-খেলোয়াড় চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেনের সমস্যার কারণে সর্বশেষ বিপিএল মৌসুমে বিসিবির প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ইকবাল পরামর্শ দেন, যদি এই সমস্যাগুলো চলতে থাকে এবং মানসম্মত ফ্র্যাঞ্চাইজি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনাম রক্ষার জন্য বিপিএল বন্ধ করে দেওয়াই একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। [source]
“অ্যালেক্স মার্শাল আমাদের জানিয়েছেন যে, EOI প্রক্রিয়ার আগে সততার প্রশ্নে দুজন ব্যক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল এবং তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন গভর্নিং কাউন্সিলের কিছু সদস্য অভিযুক্তদের একজনকে দল দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হয়েছিল।”
সূত্র
- https://en.prothomalo.com/sports/cricket/t5lz1woznm — সাময়িক বরখাস্ত, জড়িত ব্যক্তি, অভিযোগের ধরন, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চলমান তদন্ত এবং তামিম ইকবালের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত বিবৃতির বিস্তারিত তথ্য।
