ঢাকায় প্রকাশ্য স্থানে এক নারী সাংবাদিকের হয়রানির ঘটনা নারীবিদ্বেষ এবং জনসমাগমস্থলে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিক সুরাইয়া সুলতানা বিথি গত ১৫ এপ্রিল ঢাকায় একটি প্রকাশ্য স্থানে হয়রানির শিকার হন। এই ঘটনার পর তিনি বলেন, “সবকিছুই যেন নারীর দোষ! এটা একটা সাংস্কৃতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।” সুইডেন প্রবাসী ও নেত্র নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি বিথি তার বাবা-মায়ের সাথে কেনাকাটা করার সময় এক ব্যক্তি তার দিকে আপত্তিকরভাবে তাকিয়ে থাকেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে লোকটি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং তাকে গালিগালাজ করেন। বিথি ঘটনাটি রেকর্ড করেন, কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা হস্তক্ষেপ না করে তাকেই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন বলে জানা যায়। [source]
ঘটনার পর ফেসবুকে এর একটি ভিডিও পোস্ট করলে বিথি অনলাইন হয়রানির শিকার হন। তিনি মন্তব্য করেন, “প্রকাশ্য স্থানগুলো যেন শুধু বাঙালি পুরুষদের। আপনার যদি সেই পরিচয় না থাকে, তবে প্রকাশ্য স্থানে কোনো নিরাপত্তা নেই।” বিথির এই অভিজ্ঞতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, কারণ নারী বিষয়ক সংবাদ প্রতিবেদনের মন্তব্য বিভাগগুলো প্রায়শই নিন্দা এবং উপহাসের স্থানে পরিণত হয়। [source]
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং নারিপক্ষের সদস্য শিরিন পারভিন হক এই পরিস্থিতিকে একটি “দুষ্টচক্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে নারীবিদ্বেষ সংস্কৃতির একটি মূল উপাদান। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ঘটনা মনোযোগ আকর্ষণ করলেও প্রতিদিন নারীদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অনেক সহিংসতার ঘটনা অলক্ষ্যেই থেকে যায়। হক বলেন, “নারীদের মানুষ হিসেবে সম্মান করা হয় না এবং তাদের প্রতি ঘৃণা নির্ভয়ে প্রকাশ করা হয়।” [source]
এই বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত হয়েছে। স্বতন্ত্র সাংসদ রুমিন ফারহানা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য ও আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা, যেমন নারী ফুটবল ম্যাচ বাতিল এবং নারীদের পোশাক বা আচরণ নিয়ে মন্তব্যের পর কথিত হামলার ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, নারীদের উপস্থিতি বা প্রতিবাদ হয়রানিকে উস্কে দিতে পারে। [source]
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী সারা হোসেন মনে করেন, “জুলাই আন্দোলনের” পরের একটি বিশেষ পরিস্থিতি বর্তমান আবহের জন্য দায়ী হতে পারে। তিনি পুলিশের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, মানুষ “জুলাই আন্দোলনের পর একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আবির্ভূত হয়েছে”। [source]
“সবকিছুই যেন নারীর দোষ! এটা একটা সাংস্কৃতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।” — সুরাইয়া সুলতানা বিথি
সূত্র
- https://en.prothomalo.com/bangladesh/p4vwsoje02 — সুরাইয়া সুলতানা বিথির হয়রানির অভিজ্ঞতা, তার উদ্ধৃতি, শিরিন পারভিন হক এবং সারা হোসেনের মন্তব্য, এবং সংসদীয় আলোচনা ও অন্যান্য ঘটনাসহ বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিস্তারিত বিবরণ।
