একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ও পাকিস্তানের শান্তিপ্রয়াসীরা যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যা সামাজিক মাধ্যম এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আরও তীব্র হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের প্রগতিশীলরা দুই দেশের মধ্যে শান্তির পক্ষে সওয়াল করছেন এবং চিরস্থায়ী সংঘাতের পক্ষে থাকা ‘যুদ্ধংদেহী স্রোত’-এর বিরোধিতা করছেন। মে ২০২৫-এ একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘর্ষের পর এই মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে, যা পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার পক্ষে থাকা কণ্ঠস্বরকে অনেকটাই স্তব্ধ করে দিয়েছে। [source]
সীমান্তের উভয় পাশের ১.৭৫ বিলিয়ন মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে সামাজিক মাধ্যমগুলো বয়ান প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তরুণরা, যাদের বাস্তব পার্থিব স্বার্থ জড়িত, তারা ক্রমবর্ধমানভাবে আদর্শগত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে, যেখানে সীমান্তের ওপারের প্রত্যেককে শত্রু হিসেবে চিত্রিত করা হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, এর একটি কারণ হলো ‘ঘৃণা বিক্রি হয়’, বিশেষ করে যখন প্রচলিত এবং সামাজিক মাধ্যম উভয়ই এর থেকে লাভবান হতে পারে। [source]
অর্থনৈতিক সংকট এবং দমন-পীড়ন এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভারত, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল সংখ্যক তরুণ অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে, যার ফলে তাদের ক্ষোভকে সহজেই কোনো ‘শত্রু’-র দিকে চালিত করা যায়। যদিও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের মতো বড় আকারের যুব বিদ্রোহ ঘটেনি, তবে তীব্র বস্তুগত বঞ্চনা এবং শ্রেণিগত ক্ষোভ বিদ্যমান। [source]
একটি আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ৬০ কোটি ভারতীয় এবং প্রায় ৮ কোটি পাকিস্তানি সক্রিয় শ্রমশক্তির অংশ, এবং প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে যোগ দিচ্ছে। এদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ এবং শোষণমূলক কাজ খুঁজে পায়। ভারতের আনুষ্ঠানিক খাত তার তরুণ কর্মীদের মাত্র প্রায় ১০% শোষণ করতে পারে, যেখানে পাকিস্তানের উৎপাদন ভিত্তি সীমিত। [source]
গ্রামীণ এলাকাতেও একই পরিস্থিতি বিদ্যমান, যেখানে উন্নয়ন, নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং পর্যটনের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষ জমি অধিগ্রহণ এবং পরিবেশগত ধ্বংসের শিকার হচ্ছে। এটি প্রায়শই শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে সুবিধা দেয়, অন্যদিকে করাচি, দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের মতো শহরের প্রান্তিক এলাকাগুলো তাদের সংগ্রামে একে অপরের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে, এবং ইসলামাবাদে সহিংস উচ্ছেদ ঘটছে। [source]
জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলের জন্য একটি বড় হুমকি তৈরি করেছে, যেখানে ঘন ঘন বন্যা, ধোঁয়াশা, তাপপ্রবাহ এবং দাবানল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের উপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে উভয় দেশের শাসকগোষ্ঠী পরিবেশগত সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলে সম্পদশালী শ্রেণিকে রক্ষা করে। এতে আরও বলা হয়েছে যে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে জলবায়ু সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। [source]
“তরুণরা সহজেই এই বয়ানের প্রতি আকৃষ্ট হয়, যেমনটি সম্প্রতি এই পৃষ্ঠাগুলিতে ‘The Outrage Machine’ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কারণ ঘৃণা বিক্রি হয়, বিশেষ করে যখন প্রচলিত এবং সামাজিক মাধ্যম উভয়েরই অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকে।”
সূত্র
- https://www.dawn.com/news/1998582/the-case-for-peace — শান্তির পক্ষে সওয়াল, সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা, অর্থনৈতিক অবস্থা, পরিবেশগত সমস্যা এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সাধারণ настроения সম্পর্কিত তথ্য।
