ডন-এর সম্পাদক জাফর আব্বাসের মতে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ভারতের সরকারগুলো গণমাধ্যমকে নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজের ইতিবাচক খবর প্রকাশ করতে এবং ব্যর্থতাগুলো উপেক্ষা করতে চাপ দিচ্ছে।
ডন-এর সম্পাদক জাফর আব্বাসের মতে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ভারতের সরকারগুলো তাদের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ইতিবাচক খবর প্রকাশ এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি উপেক্ষা করার জন্য গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, কোনো সমালোচনা প্রকাশিত হলে এই সরকারগুলো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সম্পাদক বা প্রতিবেদকদের ওপর ‘খড়্গহস্ত হয়’, যার ফলে গণমাধ্যমগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ গ্রহণ করে এবং মূলধারার গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পায়। [source]
গত ৮-৯ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’-এ প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস এই মন্তব্য করেন। তিনি এই অঞ্চলের সাংবাদিকতার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ভয়, বাজারের চাপ এবং সরকারি চাপকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, কিছু গণমাধ্যম চাপ প্রতিরোধ করা বন্ধ করে দিয়েছে এবং সরকারি ভাষ্য অনুসরণ করতে শুরু করেছে। [source]
তিনি ব্যাখ্যা করেন, অতীতে কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট কোনো খবর প্রকাশ না করার জন্য সরাসরি অনুরোধ বা নির্দেশ দিতেন। যদিও এখন তিনি এমন সরাসরি ফোন কল আর পান না, তবে আব্বাস বিদ্যমান চাপ এবং অন্যান্য গণমাধ্যমগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে সে সম্পর্কে সচেতন। এর মধ্যে কিছু গণমাধ্যম সরকারি ভাষ্য মেনে চলার জন্য পুরস্কৃতও হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিই দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতা এবং এটি সম্ভবত অব্যাহত থাকবে। [source]
আব্বাস সাংবাদিকতায় ‘অদৃশ্য লাল রেখা’র অস্তিত্বের কথা তুলে ধরেন, যার কারণে সম্পাদকদের বাস্তববাদী হতে হয় এবং কী বলা হচ্ছে ও কী বলা উচিত নয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। তিনি যুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সে সময় তীব্র জাতীয়তাবাদের কারণে গণমাধ্যম প্রায়শই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি ভাষ্যের সঙ্গে একমত হয়ে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায়শই সরকারি সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, যা এই লাল রেখার অস্তিত্বকে আরও শক্তিশালী করে। [source]
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্পাদক এবং সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো ঐক্যবদ্ধ না হলে, সরকারগুলো অনুকূল প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে এবং সমালোচনা দমনের জন্য চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যবহার করে যাবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনীতি এভাবেই চলে। আব্বাস আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। [source]
ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ—সব দেশের সরকারই তাদের উন্নয়নের তথাকথিত ইতিবাচক খবর চায়, তারা চায় গণমাধ্যম যেন তাদের ব্যর্থতাগুলোকে উপেক্ষা করে।
সূত্র
- https://en.prothomalo.com/bangladesh/9u4vzqpq45 — সরকারি চাপ, স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ, ‘অদৃশ্য লাল রেখা’র ধারণা এবং সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জাফর আব্বাসের বক্তব্যের তথ্য।
