প্রায় এক দশক পর প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরটি একটি অস্বস্তিকর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগের ছায়ায় ঢাকা পড়েছে।
আগামী সপ্তাহে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে বাণিজ্য, ইরান এবং তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা হবে। চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন একটি অস্বস্তিকর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চলছে এবং উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। [source]
মার্কিন কর্মকর্তারা বিমান, কৃষি এবং জ্বালানির মতো খাতে আমেরিকান পণ্য কেনার জন্য চীনের কাছে অনুরোধ জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাক্তন মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার প্যাডিলার মতে, একটি প্রস্তাবিত “বোর্ড অফ ট্রেড” ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির জন্য পণ্য চিহ্নিত করতে এবং এটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে অ-সংবেদনশীল খাতে ক্রয় চুক্তির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে, মার্কিন সংস্থাগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে বাজারের প্রবেশাধিকারের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো উপেক্ষিত হতে পারে। ইউএস-চায়না বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শন স্টেইন বলেছেন, সফরের এক সপ্তাহ আগেও কোনো সিইও প্রতিনিধিদলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাননি। [source]
প্যাডিলার মতে, চীন সম্ভবত শুল্ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চাইবে। অক্টোবরে এক বছরের জন্য একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, বিশ্বব্যাপী ফেন্টানাইল সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের কথিত ভূমিকা এবং অন্যায্য কার্যকলাপের অভিযোগের কারণে ওয়াশিংটন কিছু শুল্ক বজায় রেখেছিল। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ট্রাম্পের মাদক পাচার সম্পর্কিত অনেক শুল্ক বাতিল করার সিদ্ধান্ত এবং নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি করা তদন্তগুলো অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। স্টেইন উল্লেখ করেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক প্রতিরোধ ইঙ্গিত দেয় যে এই যুদ্ধবিরতি আশানুরূপ শক্তিশালী নয়। [source]
মার্কিন-ইরান সংঘাত ট্রাম্পের এই সফরের উপর ছায়া ফেলেছে, যা পূর্বে এই সংঘাতের কারণে একবার স্থগিত করা হয়েছিল। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছিলেন যে এই শীর্ষ সম্মেলন আদৌ হবে কিনা, DGA-Albright Stonebridge Group-এর জর্গ উটকে পরামর্শ দিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট চাইবেন না ইরান তার ভ্রমণ পরিকল্পনা নির্ধারণ করুক। প্যাডিলা ধারণা করছেন যে ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার জন্য চীনের উপর চাপ দেবেন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মতে, উভয় পক্ষই ইরান থেকে চীনের তেল কেনা নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে তেল ও গ্যাসের ঘাটতিতে চীনের ক্ষতির সম্ভাবনা সীমিত, তবে এটি অর্থনৈতিক পরিণতি থেকে মুক্ত নয়। [source]
রেয়ার আর্থ খাতে চীনের আধিপত্যও আলোচনার একটি বিষয়। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হ্যাস বলেছেন, ট্রাম্প বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের জন্য চীনের উপর নির্ভরতা থেকে সুরক্ষা তৈরির উপর মনোনিবেশ করেছেন বলে মনে হচ্ছে। উটকে বলেছেন, চীন যাতে রেয়ার আর্থের রপ্তানি উন্মুক্ত রাখে, তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে, বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি এবং তার ঘাটতি পূরণের জন্য। চীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রেয়ার আর্থ উৎপাদনকারী দেশ, যা কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে সামরিক হার্ডওয়্যার পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের জন্য অপরিহার্য। [source]
শি স্ব-শাসিত তাইওয়ান সংক্রান্ত মার্কিন নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারেন, যা বেইজিং তার নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। কূটনীতিতে ট্রাম্পের লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অতীতে মার্কিন সুরক্ষার জন্য তাইওয়ানের অর্থ প্রদান করা উচিত বলে তার পরামর্শের কারণে, তাইওয়ানকে রক্ষা করার বিষয়ে তার ইচ্ছা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। উটকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে বেইজিং একজন “চতুর আলোচক” হিসেবে আলোচনা করবে এবং তার দাবিগুলো বাড়িয়ে না তোলার বিষয়ে সতর্ক থাকবে। [source]
“প্রেসিডেন্ট ইরানিদের এমন অবস্থানে ফেলতে চাইবেন না যেখান থেকে তারা তার ভ্রমণসূচি নির্ধারণ করতে পারে।”
সূত্র
- https://www.dawn.com/news/1998616/where-are-the-flash-points-in-next-weeks-trump-xi-talks — ট্রাম্প-শি আলোচনার বিষয়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে, যার মধ্যে বাণিজ্য সমস্যা, প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ ট্রেড’, শুল্ক যুদ্ধবিরতি, ইরানের উপর চাপ, রেয়ার আর্থ এবং তাইওয়ান প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষক এবং কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি ও তথ্যসূত্রও এতে রয়েছে।
