‘মারকা-ই-হক’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লে. জে. আহমেদ শরীফ চৌধুরী পাকিস্তানের প্রস্তুতির কথা জানান এবং দেশের সামরিক সক্ষমতার ওপর আলোকপাত করেন।
ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (ISPR)-এর ডিরেক্টর জেনারেল লে. জে. আহমেদ শরীফ চৌধুরী পাকিস্তানের প্রস্তুতির কথা জোর দিয়ে বলেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর দেশীয় সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেন। এই অনুষ্ঠানটি পাকিস্তানের ভাষায় ‘মারকা-ই-হক’ (সত্যের যুদ্ধ)-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল। [source]
ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতকে পাকিস্তান ‘মারকা-ই-হক’ বলে অভিহিত করে। এই সংঘাত ২২ এপ্রিল পহেলগাম হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ ও পরবর্তীতে ১০ মে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। লে. জে. চৌধুরী বলেন যে, সশস্ত্র বাহিনী মাল্টি-ডোমেইন অপারেশনের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে প্রত্যাশা পূরণ করেছে। [source]
সংবাদ সম্মেলনে লে. জে. চৌধুরী ‘মারকা-ই-হক’-এর ১০টি কৌশলগত পরিণতির রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম পরিণতি হলো—পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের উৎস হিসেবে চিত্রিত করার ভারতীয় বয়ানকে খণ্ডন করা। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভারত কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদের জন্য পাকিস্তানকে মিথ্যাভাবে দায়ী করার চেষ্টা করেছে এবং উল্লেখ করেন যে, পহেলগাম ঘটনা নিয়ে পাকিস্তানের প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। [source]
ডিজি আইএসপিআর-এর মতে, দ্বিতীয় পরিণতি হলো এই অঞ্চলে নেট সিকিউরিটি স্টেবিলাইজার (নিরাপত্তা স্থিতিশীলকারী) হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থানের দৃঢ়ীকরণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ‘মারকা-ই-হক’ উত্তেজনা চলাকালীন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রদর্শন করেছে, যা তার দাবি অনুযায়ী ভারত মিথ্যা অজুহাতে শুরু করেছিল। তিনি পাকিস্তান এবং তার নেতৃত্বকে “অঞ্চলের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় দূত” হিসেবে বর্ণনা করেন। [source]
লে. জে. চৌধুরী তৃতীয় কৌশলগত পরিণতি হিসেবে “ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ এবং ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ”-কে চিহ্নিত করেন। তিনি ভারতের সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং একটি উদাহরণ হিসেবে বলেন, একজন এয়ার চিফ মার্শাল নাকি জানিয়েছিলেন যে বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর তাকে দেরিতে জানানো হয়েছিল। তিনি ভারতীয় রাজনীতিবিদদের বক্তব্যকে “যুদ্ধবাজদের” বক্তব্য বলে অভিহিত করেন এবং সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ ও রাজনীতির সামরিকীকরণকে বিপজ্জনক প্রবণতা বলে মনে করেন। [source]
তিনি বলেন, চতুর্থ কৌশলগত পরিণতি হলো ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে বাহ্যিক রূপ দেওয়া এবং বাহ্যিক বিষয়কে অভ্যন্তরীণ করার প্রচেষ্টার বৈশ্বিক স্বীকৃতি, যেখানে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়নকে ভারতের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এর জন্য “মিথ্যা অধিকারবোধ এবং এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব”-কে দায়ী করেন। [source]
লে. জে. চৌধুরী দাবি করেন যে, ভারত সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তার অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান এড়াতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই সমস্যাগুলোর জন্য রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সমাধান প্রয়োজন এবং পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিবাদ, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় যা জনসংখ্যার পরিবর্তনে অনুমতি দেয়। [source]
লে. জে. আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, “আমরা প্রস্তুত।”
সূত্র
- https://www.dawn.com/news/1998318/we-are-prepared-dg-ispr-highlights-pakistans-indigenous-military-capabilities — ডিজি আইএসপিআর-এর সংবাদ সম্মেলন, ‘মারকা-ই-হক’-এর স্মরণসভা, ‘মারকা-ই-হক’-এর সংজ্ঞা, ডিজি আইএসপিআর দ্বারা আলোচিত কৌশলগত পরিণতি এবং ভারত ও সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে লে. জে. আহমেদ শরীফ চৌধুরীর করা নির্দিষ্ট দাবি সম্পর্কিত তথ্য।
- https://www.dawn.com/news/1998318/pakistan-witnessed-surge-in-terrorist-incidents-post-marka-i-haq-dg-ispr-says — ‘মারকা-ই-হক’-এর পরে সন্ত্রাসী ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়ে ডিজি আইএসপিআর-এর বিবৃতির সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং সংবাদ সম্মেলন ও সংঘর্ষের নামকরণ সম্পর্কিত তথ্যের সমর্থন।
