আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গাজাগামী ফ্লোটিলা থেকে আটক দুই বিদেশি কর্মীর আটকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বিরশেভার একটি আদালত। তারা অনশনে রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার একটি ইসরায়েলি আদালত আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক দুই বিদেশি কর্মীর আটকের বিরুদ্ধে করা একটি আপিল খারিজ করে দিয়েছে। এই রায়ের ফলে রবিবার পর্যন্ত তাদের আটক রাখার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল থাকল। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা গত সপ্তাহে গ্রিস উপকূল থেকে আটক করা ফ্লোটিলার কয়েক ডজন কর্মীর মধ্যে ছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে আনা হয়, অন্যদিকে অন্য কর্মীদের ক্রিটে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। [source]
কর্মীদের আইনজীবীরা তাদের আটকের বিরুদ্ধে বিরশেভা জেলা আদালতে একটি আপিল দায়ের করেছিলেন, কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। আইনজীবী হাদিল আবু সালিহ বলেন, “আজ, বিরশেভা জেলা আদালত আমাদের আপিল খারিজ করে দিয়েছে এবং মূলত রাষ্ট্র বা পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতের সামনে উপস্থাপিত সমস্ত যুক্তি মেনে নিয়ে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।” দুই কর্মী অনশনে রয়েছেন এবং পায়ে বেড়ি পরানো অবস্থায় আদালতে হাজির হন। আবু সালিহ জানান যে তার মক্কেলদের “অবৈধভাবে গ্রেপ্তার” করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে, যেখানে “ইসরায়েলি নৌবাহিনী কোনো কর্তৃত্ব ছাড়াই কর্মীদের অপহরণ করেছে”। [source]
কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে “বেআইনি এবং অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে কর্মীদের একটি ইতালীয় পতাকাবাহী জাহাজ থেকে অপহরণ করা হয়েছে, যা তাদের ইতালীয় এখতিয়ারের অধীনে রাখে। আদালাহ কর্তৃপক্ষকে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেছে, যার মধ্যে আভিলাকে একটি ঠাণ্ডা কক্ষে রাখাও অন্তর্ভুক্ত। আবু সালিহ বলেন, আবু কেশেক খাবার ও পানি উভয়ই ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ দিনের বেশিরভাগ সময় তাদের ফ্লোটিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। [source]
কর্তৃপক্ষ এই দুজনের বিরুদ্ধে “যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুকে সহায়তা করা এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে পরিষেবা দেওয়ার” অভিযোগ এনেছে। ফ্লোটিলাটি ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েল গাজার প্রবেশ পথগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। [source]
জাতিসংঘ, স্পেন এবং ব্রাজিল এই দুই কর্মীর দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেন, “সংহতি প্রকাশ করা এবং গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা কোনো অপরাধ নয়, যাদের এটি অত্যন্ত প্রয়োজন।” জাতিসংঘ দুর্ব্যবহারের “উদ্বেগজনক বিবরণ” তদন্তের দাবিও জানিয়েছে। আল-খিতান বলেন, “ইসরায়েলকে অবশ্যই গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সদস্য সাইফ আবু কেশেক এবং থিয়াগো আভিলাকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে, যাদের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক করে ইসরায়েলে আনা হয়েছে এবং সেখানে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে।” [source]
আইনজীবী হাদিল আবু সালিহ বলেন, “আজ, বিরশেভা জেলা আদালত আমাদের আপিল খারিজ করে দিয়েছে এবং মূলত রাষ্ট্র বা পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতের সামনে উপস্থাপিত সমস্ত যুক্তি মেনে নিয়ে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।”
সূত্র
- https://www.dawn.com/news/1998203/israeli-court-rejects-flotilla-activists-plea-challenging-detention — আদালতের রায়, কর্মীদের বিবৃতি, দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বান, ফ্লোটিলা এবং গাজা অবরোধের প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য।
- https://www.france24.com/en/middle-east/20260506-israeli-court-rejects-appeal-by-detained-gaza-aid-flotilla-activists — আদালতের রায় এবং আটকাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা, কর্মীদের আটকের প্রেক্ষাপট।
- https://www.france24.com/en/live-news/20260506-israeli-court-rejects-flotilla-activists-appeal-challenging-detention — আদালতের রায় এবং আপিল খারিজের নিশ্চয়তা।
এই খবরটি উদ্ধৃত উৎসগুলির সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে AI-এর সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মূল উৎস থেকে যাচাই করুন।
