বাংলাদেশের ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে শিশুরা তাদের অজান্তেই এন্ডোক্রাইন-ডিসরাপ্টিং কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসছে, যা তাদের বিকাশের জন্য অপরিহার্য হরমোন ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
কর্মজীবী পরিবারের জন্য বাংলাদেশের ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর এবং খুলনার মতো শহুরে কেন্দ্রগুলোতে। হাজার হাজার শিশু তাদের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ সময় কাটায়, কিন্তু তারা এক নীরব স্বাস্থ্য সংকট সম্পর্কে অবগত নয়: এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টিং কেমিক্যালস (ইডিসি)-এর সংস্পর্শে আসা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিশুরা নিয়মিত এমন সব বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসছে যা তাদের বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রজনন ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য হরমোন प्रणालीকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। [source]
ইডিসি হলো এমন পদার্থ যা মানুষের এন্ডোক্রাইন সিস্টেম বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতন্ত্রকে ব্যাহত করে। এই সিস্টেমটি বিপাক, বৃদ্ধি, প্রজনন স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন পরিচালনা করে। শৈশবের শুরুতে সামান্য পরিমাণে এর সংস্পর্শে এলেও শরীরে অপরিবর্তনীয় জৈবিক প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণ ইডিসিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিসফেনল (যেমন BPA), থ্যালেট, ফ্লেইম রিটার্ডেন্ট, PFAS, ফরমালডিহাইড, প্যারাবেন এবং লেড ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু—এগুলো সবই শিশুদের প্রতিষ্ঠানে প্রায়শই পাওয়া যায়। [source]
শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, হরমোন ব্যবস্থা এবং মস্তিষ্ক তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাদের দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, মুখে জিনিস দেওয়ার প্রবণতা এবং বিভিন্ন বস্তুর সংস্পর্শে বেশি আসায় তাদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে ইডিসি’র সংস্পর্শে আসার সঙ্গে ধীর বিকাশ, কম আইকিউ, আচরণগত সমস্যা, হাঁপানি, স্থূলতা, থাইরয়েডের সমস্যা, বয়ঃসন্ধি ত্বরান্বিত হওয়া, বন্ধ্যাত্ব এবং পরবর্তী জীবনে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার মতো বিষয়গুলোর সম্পর্ক রয়েছে। [source]
বাংলাদেশে পরিচালিত তদন্তে ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ইডিসি’র একাধিক উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। কম দামি প্লাস্টিকের খেলনায় প্রায়শই থ্যালেট থাকে, অন্যদিকে ফোমের ম্যাট এবং সিন্থেটিক আসবাবপত্র থেকে ফ্লেইম রিটার্ডেন্ট ও উদ্বায়ী জৈব যৌগ নির্গত হতে পারে। ভিনাইল ফ্লোরিং থেকে বিষাক্ত প্লাস্টিসাইজার নির্গত হতে পারে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত পণ্যে এন্ডোক্রাইন-সক্রিয় যৌগ থাকতে পারে যা উল্লেখ করা থাকে না। কিছু প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত রঙে লেড এবং অন্যান্য বিপজ্জনক সংযোজনও থাকতে পারে। [source]
অপর্যাপ্ত বায়ুচলাচলের ব্যবস্থাযুক্ত ঘরে ধুলো জমে রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ আরও ঘনীভূত হয়, যার ফলে হামাগুড়ি দেওয়া এবং বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করা শিশুরা ক্রমাগত স্বল্প মাত্রায় এর সংস্পর্শে আসে। অন্যান্য রোগের মতো তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই ইডিসি নীরবে কাজ করে, যা হরমোনের সংকেত এবং মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। [source]
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কতা এবং ক্রমবর্ধমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, শিশুদের প্রতিষ্ঠানে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশে কোনো সমন্বিত আইন নেই। অভিভাবক, তত্ত্বাবধায়ক এবং অনেক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর কাছেও এই বিষয়টি বহুলাংশে অজানা রয়ে গেছে। [source]
সূত্র
- https://en.prothomalo.com/opinion/op-ed/fbvo2i3p9e — ইডিসি, ডে-কেয়ার সেন্টারে এর উৎস, শিশুদের উপর স্বাস্থ্যগত প্রভাব, শিশুদের ঝুঁকি এবং বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত আইনের অভাব সম্পর্কে তথ্য।
