সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানজুড়ে সংরক্ষণবিদরা ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে এবং তহবিলের সংকটও দেখা দিতে পারে।
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইরানজুড়ে সংরক্ষণবিদরা ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে রক্ষা করার জন্য কাজ করছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীতে হামলার প্রেক্ষাপটে এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে কিছু মেরামত শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তেহরানের গোলেস্তান প্রাসাদে ভাঙা আয়না, ভাঙা দরজা এবং অলঙ্কৃত ছাদের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এই প্রাক্তন রাজকীয় বাসভবনটি ২০১৩ সাল থেকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত এবং এটি বিস্ফোরণের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোলেস্তান প্রাসাদের পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞ আলী ওমিদ আলী বলেন, “ক্ষয়ক্ষতি বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তবে আরও বিস্তারিত বিশেষায়িত মূল্যায়ন এখনও চলছে।” বৃহত্তর মেরামতের কাজ শুরু করার আগে কাঠামোকে আরও ধস থেকে রক্ষা করার জন্য দলগুলো স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আমাদের আরও স্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রয়োজন।” প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, গোলেস্তান প্রাসাদের কাজে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে এবং মেরামত শেষ হতে “দুই বা তার বেশি বছর” সময় লাগতে পারে। [source]
ঊনবিংশ শতাব্দীর পারস্য শিল্পকলা এবং ইউরোপীয় শৈলীর মিশ্রণের জন্য পরিচিত গোলেস্তান প্রাসাদটি সংঘাতের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অন্তত পাঁচটি ইউনেস্কো-তালিকাভুক্ত স্থানের মধ্যে অন্যতম। গোলেস্তান প্রাসাদ জাদুঘরের পরিচালক জব্বার আভাজ সরকারি সংবাদ সংস্থা IRNA-কে বলেন, “এর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দরজা-জানালা ভেঙে গেছে।” প্রাসাদের মিরর হল এবং মার্বেল সিংহাসন “গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত” হয়েছে। [source]
ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউনেস্কো-তালিকাভুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসফাহানের চেহেল সোতুন প্রাসাদ ও মসজিদ-ই জামে এবং খোরামাবাদ উপত্যকার প্রাগৈতিহাসিক স্থান। ইউনেস্কোর জন্য ইরানের জাতীয় কমিশনের প্রধান হাসান ফারতুসির মতে, এই তালিকাভুক্ত স্থানগুলো ছাড়াও ইরানজুড়ে অন্তত ১৪০টি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানের মার্বেল প্রাসাদ, তৈমুরতাশ হাউস এবং সাদাবাদ প্রাসাদ কমপ্লেক্স। ফারতুসি বলেন, “ইরানের আকাশে এখনও যুদ্ধের ছায়া লেগে আছে এবং এই পরিস্থিতিতে আমরা পুনরুদ্ধারের জন্য খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে পারছি না।” [source]
যদিও ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি প্রধান শহরাঞ্চলগুলোতে লড়াই মূলত থামিয়ে দিয়েছে, তবে উপকূলীয় এলাকা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ঘটেছে। ফারতুসি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে মেরামতের পরেও ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো হয়তো তাদের আসল বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি ফিরে পাবে না। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারণাটি “মৌলিকতার ধারণার” ওপর নির্ভর করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা যদি আমাদের মহান শিল্পী এবং পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুনরুদ্ধার করিও, তাহলেও মৌলিকতা কোথায় থাকবে?” [source]
পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার জন্য তহবিল একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানি সরকার এখনও পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো বাজেট ঘোষণা করেনি, কারণ তারা যুদ্ধের প্রভাব এবং মার্কিন অবরোধের সঙ্গে লড়াই করছে, যা রপ্তানি ব্যাহত করেছে। ফারতুসি উল্লেখ করেন, “দুর্ভাগ্যবশত, ইউনেস্কো এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার বাজেট সীমিত।” [source]
গোলেস্তান প্রাসাদের পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞ এবং কারিগরি প্রকৌশল বিভাগের প্রধান আলী ওমিদ আলী বলেন, “পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আমাদের আরও স্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রয়োজন।”
সূত্র
- https://www.dawn.com/news/1999172/fearing-return-to-war-iran-conservationists-shore-up-damaged-heritage-sites — গোলেস্তান প্রাসাদের ক্ষয়ক্ষতি, অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত স্থান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, মেরামতের সময়সীমা, খরচ এবং তহবিল ও মৌলিকত্বসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কর্মকর্তাদের বিবৃতির বিস্তারিত তথ্য।
