Advertisement728 × 90#ad-header-top
Advertisement320 × 50#ad-header-top
ইরান যুদ্ধে অস্ত্র ফুরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের, ভবিষ্যতের যুদ্ধ নিয়ে গভীর শঙ্কা বিশ্লেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলা, নামাজে আসা ৩ মুসল্লি নিহত; পুলিশ বলছে বিদ্বেষমূলক হামলা ট্রাম্পের অস্ত্র বিক্রির অনিশ্চয়তার মধ্যে তাইওয়ান স্বাধীনতার উপর জোর দিয়েছে ইউরোভিশন ফাইনালে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ, ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে পাঁচ দেশের বয়কট বোলিভিয়ার সেনাবাহিনী ১১ দিনের বিক্ষোভের পর রাস্তা পরিষ্কারের চেষ্টা করছে পাকিস্তান আফগান কূটনীতিককে তলব করেছে, নতুন করে উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘর্ষের আশঙ্কা তাইওয়ান স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিল, ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তার পর ইরান সংঘাত জ্বালানি বাজারকে নতুন রূপ দিচ্ছে, মার্কিন গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে ডিআর কঙ্গো: মারাত্মক বান্ডিবুগো ইবোলা স্ট্রেনের জন্য কোনও ভ্যাকসিন নেই নতুন সমীক্ষায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে লুলা ও বলসোনারোর সমতা ইরান যুদ্ধে অস্ত্র ফুরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের, ভবিষ্যতের যুদ্ধ নিয়ে গভীর শঙ্কা বিশ্লেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলা, নামাজে আসা ৩ মুসল্লি নিহত; পুলিশ বলছে বিদ্বেষমূলক হামলা ট্রাম্পের অস্ত্র বিক্রির অনিশ্চয়তার মধ্যে তাইওয়ান স্বাধীনতার উপর জোর দিয়েছে ইউরোভিশন ফাইনালে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ, ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে পাঁচ দেশের বয়কট বোলিভিয়ার সেনাবাহিনী ১১ দিনের বিক্ষোভের পর রাস্তা পরিষ্কারের চেষ্টা করছে পাকিস্তান আফগান কূটনীতিককে তলব করেছে, নতুন করে উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘর্ষের আশঙ্কা তাইওয়ান স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিল, ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তার পর ইরান সংঘাত জ্বালানি বাজারকে নতুন রূপ দিচ্ছে, মার্কিন গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে ডিআর কঙ্গো: মারাত্মক বান্ডিবুগো ইবোলা স্ট্রেনের জন্য কোনও ভ্যাকসিন নেই নতুন সমীক্ষায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে লুলা ও বলসোনারোর সমতা

ইরান যুদ্ধে অস্ত্র ফুরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের, ভবিষ্যতের যুদ্ধ নিয়ে গভীর শঙ্কা বিশ্লেষকদের

Share:
Advertisement728 × 90#ad-article-top
Advertisement300 × 250#ad-article-top

বিশ্লেষণ | প্রতিরক্ষা ও সামরিক

ওয়াশিংটন, ১৮ মে ২০২৬ — ইরানের বিরুদ্ধে ৩৯ দিনের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দামি ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সিএনএন, টাইম, ব্লুমবার্গ, সিবিএস ফেস দ্য নেশন এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর প্রতিবেদন বলছে, কেবল প্রথম সাত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র তার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে। এই ঘাটতি ভবিষ্যতে চীন বা অন্য বড় শক্তির সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল অবস্থানে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

এই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র সহায়তায় ১৬টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ এবং সংকলন করে তৈরি। মূল তথ্য, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞ মন্তব্য প্রতিবেদনের নিচে উল্লেখিত সূত্রগুলো থেকে সংগৃহীত। সঙ্গে ব্যবহৃত গ্রাফিক্স ও ইনফোগ্রাফিকগুলোও এআই-সহায়তায় তৈরি। সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তথ্য যাচাই করা হয়েছে; কোনো ভুল বা অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে অনুগ্রহ করে অবহিত করুন।

Advertisement300 × 250#ad-article-middle

মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব (যিনি ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ পদবিতে কাজ করছেন) পিট হেগসেথ অবশ্য বারবার দাবি করেছেন, এই সংকট অতিরঞ্জিত। কিন্তু সিবিসি, সিএনএন, টাইম, ফরচুন, ফক্স নিউজ ও মিলিটারি টাইমসসহ যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও থিংক ট্যাংক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

ঘাটতির আসল চিত্র: কী কী ফুরিয়ে যাচ্ছে

সিএসআইএস-এর প্রকাশিত ‘লাস্ট রাউন্ডস?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান ও গবেষক ক্রিস পার্ক বিশ্লেষণ করেছেন—যুদ্ধের ৩৯ দিনে যুক্তরাষ্ট্র সাত ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের চারটির ক্ষেত্রে যুদ্ধপূর্ব মজুদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করেছে। সিএনএন ও ফরচুন এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জানিয়েছে—

  • প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবহৃত (যুদ্ধ শুরুর সময় মজুদ ছিল প্রায় ৪ হাজার, ব্যবহার হয়েছে আনুমানিক ১ হাজার)
  • থাড (THAAD) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক: ৫০ শতাংশের বেশি (প্রতিটির দাম প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার)
  • প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (PrSM): যুদ্ধপূর্ব পুরো মজুদই ব্যবহার হয়ে গেছে
  • টমাহক ক্রুজ মিসাইল: প্রায় ৩০ শতাংশ; প্রথম ৭২ ঘণ্টায়ই ছোড়া হয়েছে ৪০০টির বেশি, এক মাসে ৮৫০টিরও বেশি
  • জেএএসএসএম দীর্ঘপাল্লার ক্রুজ মিসাইল: ২০ শতাংশের বেশি; এক মাসে ব্যবহার ১ হাজারের বেশি
  • এসএম-৩ ও এসএম-৬ নৌক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় ২০ শতাংশ (এসএম-৩-এর প্রতিটির দাম প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার)

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে কিয়েভ পোস্ট জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে টমাহকের ব্যয় ‘বিশাল’ — পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা এটিকে ‘ব্যাপক মাত্রার ব্যবহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

‘ফুরিয়ে গেছে’ বনাম ‘পর্যাপ্ত আছে’: ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক

বিতর্কের সূত্রপাত করেন অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সাবেক নৌবাহিনী ক্যাপ্টেন মার্ক কেলি। সিবিএস-এর ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে যা দেখেছেন তা ‘মর্মান্তিক’, এবং মজুদ পুনর্গঠনে ‘বছরের পর বছর’ লেগে যেতে পারে। আরিজোনা প্রজেক্টের তথ্য অনুসারে, কেলি বলেন, ‘আমরা যেভাবে ম্যাগাজিনগুলোতে হাত দিয়েছি, তা মর্মান্তিক।’

সিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন আর্মি মেজর জেনারেল ও আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (এইআই)-এর সিনিয়র ফেলো জন ফেরারি বলেছেন, পরিস্থিতি ‘খুবই উদ্বেগজনক’। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের যে ধরনের যুদ্ধে দক্ষতা—দীর্ঘপাল্লার ও উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিখুঁত আঘাত—সেই অস্ত্রই ফুরিয়ে আসছে। ফেরারির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা উচিত ছিল ‘দুটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ’ চালানোর জন্য, কিন্তু এখন আছে কেবল একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষাসচিব হেগসেথ ট্যাম্পায় সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো ঘাটতি নেই’ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই অভিযান যত দিন চালানো দরকার চালানো যাবে—এমনটাই ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সরবরাহ ‘কার্যত সীমাহীন’ এবং তারা ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালাতে পারবে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, এই দাবি বাস্তব পরীক্ষার মুখে পড়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোতে পাল্টা হামলা চলছে।

কেলির বক্তব্যের পর হেগসেথ তদন্তের ঘোষণা দেন—তাঁর অভিযোগ, সিনেটর কেলি গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, এ ঘটনায় পেন্টাগন বনাম কংগ্রেসের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

কিন্তু সিএসআইএস-এর ক্যানসিয়ান টাইমকে বলেছেন, ‘‘ডিওডি-র (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) কাছে অর্থের তুলনায় অস্ত্রে খরচ করার সময়ই কম।’’ তাঁর ভাষায়, সমস্যা টাকার নয়—সময়ের।

কেন এত সময় লাগবে: উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অস্ত্র উৎপাদনের সময়সীমার বাস্তবতা—

  • একটি টমাহক ক্রুজ মিসাইল তৈরি ও সরবরাহে লাগে ৪৭ মাস
  • একটি জেএএসএসএম তৈরি ও সরবরাহে লাগে ৪৮ মাস
  • লকহিড মার্টিন ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়টের PAC-3 MSE-র বার্ষিক উৎপাদন ২ হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে
  • পেন্টাগনের লক্ষ্য বছরে ১ হাজারের বেশি টমাহক তৈরি (গত বছর তৈরি হয়েছিল মাত্র ৫৫টি; এ বছরের লক্ষ্য ৭৮৫টি, ১০০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি)

‘রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট’ ম্যাগাজিনে কাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ক্যাথরিন থম্পসন লিখেছেন, ‘‘বাজেটে অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট হলেও, এই উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে লাগবে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ বছর।’’ এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিরক্ষা প্রধান বেক্কা ওয়াসারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের আগেও যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ ‘অপর্যাপ্ত’ ছিল—এখন তা আরও তীব্র হয়েছে।

মেরিকা এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এইআই) বিশ্লেষণে জন ফেরারি এই সংকটকে কোরীয় যুদ্ধের ১৯৫০ সালের ‘টাস্ক ফোর্স স্মিথ’ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই সময় অপ্রতুল গোলাবারুদ ও পুরোনো সরঞ্জাম নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো একটি ইউনিট কোরিয়ার উত্তরের সৈন্যদের সামনে পরাভূত হয়। ফেরারির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প-ভিত্তি (industrial base) সংকুচিত হয়েছে ১৯৯৩ সালের ‘দ্য লাস্ট সাপার’ থেকে—যখন তৎকালীন প্রতিরক্ষাসচিব লেস অ্যাসপিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের একীভূত হতে বলেছিলেন। এর পর কয়েক ডজন প্রতিরক্ষা কোম্পানি কয়েকটি বড় ‘প্রাইম’ ঠিকাদারে পরিণত হয়, যা আজকের ‘সরু’ উৎপাদন-কাঠামোর মূল কারণ।

মিত্রদের ওপর প্রভাব: ইউক্রেন থেকে জাপান, এস্তোনিয়া থেকে উপসাগরীয় দেশ

ফরচুনের প্রতিবেদন অনুসারে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রটি এখন বিশ্বের ১৮টি দেশ ব্যবহার করে; যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছরে ইউক্রেন ও অন্যান্য মিত্রদের প্রায় ৬০০টি প্যাট্রিয়ট দিয়েছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধে নিজস্ব ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এখন—

  • ইউক্রেন: আগে থেকেই প্যাট্রিয়টের ঘাটতিতে ছিল; এখন আরও তীব্র। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের বলেছেন, ইউরোপের উচিত নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেরাই তৈরি করা।
  • জাপান: ৪০০টি টমাহক ক্রয়ের চুক্তি ছিল, কিন্তু সরবরাহ বিলম্বিত হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় এই অস্ত্র জাপানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
  • এস্তোনিয়া: প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর ২০ এপ্রিল ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের দেশে অস্ত্র সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
  • উপসাগরীয় দেশ: সৌদি আরব, আমিরাত প্রভৃতি দেশ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চাচ্ছে।

ক্যানসিয়ানের ভাষায়, ‘‘আগামী কয়েক বছর সব দেশের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে না।’’

পেন্টাগন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে একটি থাড ব্যাটারি মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করেছে। প্যাট্রিয়টের যন্ত্রাংশও ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সরানো হয়েছে—যা ১৯ফরটিফাইভ ও ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে চীনের সম্ভাব্য হুমকির বিপরীতে ইন্দো-প্যাসিফিকে আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়েছে।

চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত: ‘দুর্বলতার জানালা’

বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ইরান যুদ্ধ নয়—বরং সম্ভাব্য চীন-যুদ্ধ। চলতি ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বহুদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, চীন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে অভিযান শুরু করতে পারে। মে ২০২৫-এ হেগসেথ চীনকে তাইওয়ানের জন্য ‘অত্যাসন্ন’ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

সিএনএনকে ক্যানসিয়ান বলেছেন, ‘‘অস্ত্রের ব্যাপক ব্যয় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে দুর্বলতার একটি জানালা তৈরি করেছে।’’ মজুদ পুনর্গঠনে এক থেকে চার বছর, এবং পছন্দসই মাত্রায় নিতে আরও কয়েক বছর লাগবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নটাস’-এর তথ্যানুসারে, পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জেই হার্স্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের ব্যয় ইতিমধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এদিকে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ লিন্ডা বিলমেস ফরচুনকে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধের সম্পূর্ণ ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে—বিশেষত যদি অবকাঠামো ক্ষতি ও বহু বছরের ভেটেরান সুবিধা যোগ করা হয়।

খরচের গাণিতিক অসামঞ্জস্য: ৩০ হাজার বনাম ৩০ লাখ ডলার

সিনেটর কেলি কিয়েভ পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যে বিষয়টিকে ‘গণিতের সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—সেটিই প্রতিরক্ষা অর্থনীতির আসল সংকট। একটি ইরানি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে ব্যয় হয় মাত্র ৩০ হাজার ডলার, কিন্তু সেটি ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত হয় কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট বা থাড।

ছোট ছোট, সস্তা ড্রোন প্রতিরোধে কখনো কখনো হেলিকপ্টার, কামান-সজ্জিত বিমান বা ১০ লাখ ডলার মূল্যের AIM-120 আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করতে হচ্ছে—সিএসআইএস প্রতিবেদন বলছে এটি ‘দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়’।

এই বাস্তবতা স্বীকার করেই পেন্টাগন নতুন কম-খরচের ক্রুজ মিসাইল (লো-কস্ট ক্রুজ মিসাইল বা LCCM) কর্মসূচি চালু করেছে। মিলিটারি ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোঅ্যাসপায়ার ও অ্যান্ডিউরিল—এই দুই অপেক্ষাকৃত নতুন কোম্পানি যথাক্রমে ‘ঘোস্ট’ ও ‘ব্যারাকুডা-৫০০এম’ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসেছে, যেগুলোর প্রতিটির দাম পড়বে ১০ লাখ ডলারেরও কম—টমাহকের তুলনায় প্রায় চার ভাগের এক ভাগ।

কেন এই সংকট: আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতা

‘রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট’-এ ক্যাথরিন থম্পসন লিখেছেন, সমস্যাটি কেবল ট্রাম্প বা বাইডেনের নয়—এটি দুই দলেরই ব্যর্থতা। বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে মার্কিন মজুদে গর্ত তৈরি করেছিল; ট্রাম্প সেই গর্ত পূরণ না করেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। ১৯৯৩ সালের ‘দ্য লাস্ট সাপার’, ২০১১ সালের বাজেট কন্ট্রোল অ্যাক্ট এবং ‘স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধই ভবিষ্যৎ’—এই অনুমান মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিমাণে অল্প, দামে বেশি’ অস্ত্র মজুদের কৌশল বেছে নিয়েছিল।

এইআই-এর ফেরারি লিখেছেন, ‘‘একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন লাইন প্রসারিত করতে চুক্তি স্বাক্ষর থেকে অর্থপূর্ণ উৎপাদনে পৌঁছাতে কয়েক বছর লেগে যায়। জনবল প্রশিক্ষণ, সরবরাহকারী যোগ্যতা ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগ সবই এই পথের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’’ স্মল ওয়ারস জার্নাল ও টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বিশ্লেষণেও একই সুর: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প-ভিত্তি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মডেলে’ চলছে, যা আজকের প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে না।

পেন্টাগনের প্রতিক্রিয়া: ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছে—এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমার জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ। পেন্টাগনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘১২টি ক্রিটিক্যাল মিউনিশনে’ই খরচ হবে ৫২.৯ বিলিয়ন ডলার—যা গত বছরের তুলনায় ১৮৮ শতাংশ বেশি। তবে হার্স্ট নিজেই স্বীকার করেছেন, এই বাজেট ইরান যুদ্ধের আগেই প্রণীত—তাই যুদ্ধের পূর্ণ ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনকে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ‘প্রেসিডেন্টের পছন্দমতো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু’ আছে। কিন্তু সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—যদি কোনো সংকট না থাকে, তাহলে উপ-প্রতিরক্ষাসচিব কেন উৎপাদন তিন গুণ করতে কাজ করছেন?

ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদনে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প-ভিত্তির ৯০ শতাংশ ধ্বংস করেছে; তবে নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যানুসারে, ইরান এখনো তার যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রেখেছে—অর্থাৎ ইরানি হুমকি কমেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই খবর

বাংলাদেশের লাখো অভিবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন, এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখানকার তেলের দাম, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সরাসরি অভিবাসীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। কাইভ পোস্টের তথ্য অনুসারে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতে জড়ায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে—বিশেষ করে ভারত-চীন-বাংলাদেশ ত্রিভুজে—তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। মার্কিন সামরিক সরবরাহ চেইনে সংকট হলে এই অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার মার্কিন সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

শেষ কথা: ‘টাকা সমস্যা নয়, সময়ই সমস্যা’

বিশ্লেষকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দুর্বলতার জানালা’ পেরিয়ে যেতে হবে। বাজেটে অর্থ থাকলেও কারখানার সক্ষমতা ও জনবল প্রস্তুত করতে সময় লাগবে। এই সময়ে যদি ইন্দো-প্যাসিফিক বা ইউরোপে নতুন কোনো সংঘাত শুরু হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দীর্ঘপাল্লার, উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

সিএসআইএস-এর ক্যানসিয়ান বলেছেন, ‘‘আমরা পাথর ছুড়ে যুদ্ধ করব না—কিন্তু চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে কাজে লাগে এমন ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকবে।’’ ফলে দীর্ঘপাল্লার বদলে স্বল্প বা মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে—যার মানে জাহাজ ও বিমানকে শত্রুর কাছাকাছি যেতে হবে। আর এর মূল্য? ‘‘বেশি মার্কিন সৈন্যের মৃত্যু,’’ বলেছেন ক্যানসিয়ান।


সূত্র (১৬টি প্রধান সূত্র)

  1. সিবিসি নিউজ — ‘‘ANALYSIS | Is the U.S. military running out of weapons?’’ — মার্ক গলম, ১৮ মে ২০২৬
  2. সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) — ‘‘Last Rounds? Status of Key Munitions at the Iran War Ceasefire’’ — মার্ক ক্যানসিয়ান ও ক্রিস পার্ক, এপ্রিল ২০২৬
  3. সিএনএন পলিটিকস — ‘‘US at risk of running out of missiles if another war breaks out’’, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  4. টাইম ম্যাগাজিন — ‘‘The U.S. is Facing an Ammunition Shortage Due to the Iran War’’, ১২ মে ২০২৬
  5. ব্লুমবার্গ — ‘‘Hegseth Says the US Has No Shortage of Munitions for Iran War’’, ৫ মার্চ ২০২৬
  6. অ্যাক্সিওস — ‘‘Trump says US has ‘unlimited’ munitions amid weapon shortage concerns’’, ৪ মার্চ ২০২৬
  7. ফরচুন — ‘‘The U.S. military has depleted half its stockpiles of its most expensive munitions in Iran war’’, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  8. ফক্স নিউজ — ‘‘US used roughly half its Patriot interceptors in Iran war, CSIS finds’’, এপ্রিল ২০২৬
  9. মিলিটারি টাইমস — ‘‘Is the US running out of Tomahawk missiles?’’, ১ এপ্রিল ২০২৬
  10. মিলিটারি ডটকম — ‘‘Pentagon Rushes to Buy 10,000 Missiles as Iran Has Depleted Stockpiles’’, মে ২০২৬
  11. এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন — ‘‘Munitions Used Against Iran Will Take Years to Replace’’
  12. আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (এইআই) — ‘‘Running on Empty: America’s Depleted Weapons Stocks in the Iran War Are a Strategic Red Flag’’ — জন ফেরারি, ২৬ মার্চ ২০২৬
  13. রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট — ‘‘Can we please talk about WHY we are in a missile shortage?’’ — ক্যাথরিন থম্পসন, ১৮ মে ২০২৬
  14. কিয়েভ পোস্ট — ‘‘US Depleting Key Missile Stockpiles Weeks Into Iran War’’, ১৩ মার্চ ২০২৬
  15. নটাস (NOTUS) — ‘‘The Pentagon Says the Iran War Cost Has Jumped to $29 Billion’’
  16. ডিফেন্স নিউজ — ‘‘Iran military threat is diminished but not eliminated, CENTCOM chief says’’, ১৪ মে ২০২৬

আরও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে: ১৯ফরটিফাইভ, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, স্মল ওয়ারস জার্নাল ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-নিউইয়র্ক টাইমস ভিত্তিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি থেকে।

এই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র সহায়তায় ১৬টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ এবং সংকলন করে তৈরি। মূল তথ্য, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞ মন্তব্য প্রতিবেদনের নিচে উল্লেখিত সূত্রগুলো থেকে সংগৃহীত। সঙ্গে ব্যবহৃত গ্রাফিক্স ও ইনফোগ্রাফিকগুলোও এআই-সহায়তায় তৈরি। সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তথ্য যাচাই করা হয়েছে; কোনো ভুল বা অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে অনুগ্রহ করে অবহিত করুন।

Advertisement728 × 90#ad-article-bottom
Advertisement320 × 50#ad-article-bottom
Advertisement320 × 50#ad-above-footer