হামের সংক্রমণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ৫০ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং টিকাদানের ঘাটতি এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হামের প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে ৩০০-র বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে। কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে, যা ৫০,০০০-এরও বেশি শিশুকে আক্রান্ত করেছে, যাদের বেশিরভাগের বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। গত ৪ মে দেশটি একটি ভয়াবহ মাইলফলক স্পর্শ করে, যখন একদিনেই ১৭টি শিশুর মৃত্যু হয়। [source]
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ও তার পরে টিকা কার্যক্রমে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে এই প্রাদুর্ভাবের যোগসূত্র রয়েছে। সরকারের পতনের কারণ হওয়া সেই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ওই বছরের জন্য নির্ধারিত হামের টিকাদান কর্মসূচি বিলম্বিত হয়েছিল। গত বছর, টিকার আওতায় ছিল মাত্র ৫৯ শতাংশ, যা হার্ড ইমিউনিটির জন্য প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। [source]
জাতিসংঘের শিশু সংস্থা WHO এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গত ৫ এপ্রিল একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু করেন। এই অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ শিশু টিকা পেয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান জানান, এই টিকাদান কর্মসূচির ফলাফল দেখতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। [source]
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা শ্বাসতন্ত্রের ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এটি শিশুদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলে, যা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে, যা স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ৪৫ বছর বয়সী রিনা বেগম তার তিন বছর বয়সী নাতনি আফিয়ার অভিজ্ঞতা জানান, যে টিকার দ্বিতীয় ডোজটি পায়নি এবং ঢাকার একটি হামের ওয়ার্ডে দুই সপ্তাহ কাটিয়েছে। বেগম বলেন, “তাকে অক্সিজেনে রাখার পর এখন সে অনেক ভালো আছে।” [source]
চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আহসান দাবি করেছেন যে হাসপাতালগুলো এখনও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে নেই। তবে, সেনাবাহিনী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ২০ শয্যার তাঁবুর ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করেছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, ভারি বর্ষণের কারণে আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমেও এই ফিল্ড হাসপাতালটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। [source]
“তাকে অক্সিজেনে রাখার পর এখন সে অনেক ভালো আছে,” বলেন ৪৫ বছর বয়সী রিনা বেগম, যার নাতনি আফিয়া হাম থেকে সেরে উঠছে।
সূত্র
- https://en.prothomalo.com/bangladesh/bangladesh-in-world-media/0ryudl8113 — মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা, টিকা কর্মসূচির ঘাটতির প্রভাব, জরুরি টিকাদান অভিযান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের বিস্তারিত তথ্য।
- https://www.dawn.com/news/1998626/child-deaths-mount-from-bangladesh-measles-outbreak — প্রাদুর্ভাবের পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই, টিকা কর্মসূচির ঘাটতিতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ভূমিকা এবং সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের তথ্য।
